নোয়াখালীতে রাজীব হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, বাবার যাবজ্জীব
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে বহুল আলোচিত ফজলে হুদা রাজীব হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আরও দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে পলাতক আসামি ওমর নাসির সাজু (২৬), ওমর শরীফ সুলতান (২২) ও মো. সৌরভ (২৬)-কে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
অন্যদিকে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৬), কুদরত উল্যা (৫৫) ও হারুনুর রশিদ বাবুল (৪০)-কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ মামলায় মুন্নি (৩২) ও ফারজানা (২৮)-কে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাসের পূর্ব গেটের উত্তরে অনন্তপুর সড়কে সালিশকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে ফজলে হুদা রাজীব, তার বন্ধু ওয়াশিম ও ইয়াছিনের সঙ্গে আসামিদের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়।
এজাহার অনুযায়ী, সাজুর গুলিতে রাজীব, সুলতানের গুলিতে ওয়াশিম এবং সৌরভের গুলিতে ইয়াছিন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাজীবকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে ওয়াশিমেরও মৃত্যু হয়।ঘটনার পরদিন রাজীবের মা কামরুন নাহার বেগম বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ১ নম্বর অতিরিক্ত আদালতের পিপি ও বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বরুত উল্যাহ রাসেদ বলেন, গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন।
https://slotbet.online/