কোম্পানীগঞ্জে পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের ভল্ট থেকে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কারাগারে ৩
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারে একটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম।
পুলিশ জানায়, বসুরহাট বাজারের এস বি কমিউনিকেশন নামের একটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমন সাহা এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর রোববার রাত ১০টার দিকে বসুরহাট বাজারের কলেজ গেট এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কবিরহাট উপজেলার নূরসোনাপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৯), একই উপজেলার কালুয়া দিঘিরপাড় এলাকার শরিফ উল্যার ছেলে ইমাম হোসেন (২৪) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আনোয়ার আহমেদের ছেলে নজরুল ইসলাম (২১)।
মামলার এজাহার ও প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, এস বি কমিউনিকেশনের ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন অমিত সাহা (৩৩)। তিনি ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন।
সম্প্রতি তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। গত রোববার (১৪ জুন) সকালে তিনি অফিসে না আসায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লোক পাঠানো হলে তিনি দ্রুত অফিসে আসবেন বলে জানান। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তিনি অফিসে না ফেরায় তার বাসায় খোঁজ নেওয়া হয়। সেখানে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা হিসাবপত্র ও ক্যাশ ভল্ট যাচাই করে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ঘাটতি দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ক্যাশিয়ার অমিত সাহা তিনটি পৃথক ক্যাশ চালানে ২০ লাখ টাকা, ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের তথ্য দেখিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই অর্থ গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার পর থেকে অমিত সাহা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমন সাহা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি আত্মসাৎ হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. নুরুল হাকীম বলেন, এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
https://slotbet.online/